Close Menu
অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • পুঁজি বাজার
    • নির্বাচিত লেখা
    • আলাপন
    • পরিবেশ
    • আরও
      • আর্থিক খাত
      • আবাসন খাত
      • তৈরি পোশাক শিল্প
      • ওষুধ শিল্প
      • কৃষি শিল্প
      • ই-কমার্স
      • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
      • চামড়া শিল্প
      • তথ্য ও প্রযুক্তি
      • পর্যটন
      • বিশেষ প্রতিবেদন
      • বাণিজ্য
      • প্রবাসী আয়
      • পোলট্রি খাত
      • বাজার
      • শিক্ষা খাত
      • শিল্প খাত
      • রাজস্ব
      • মৎস্য খাত
      • শ্রম বাজার
      • স্বাস্থ্য অর্থনীতি
      • হিমায়িত খাদ্য
      • যোগাযোগ
      • পরিবহন খাত
      • নগর দর্পন
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভিনদেশ
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • পুঁজি বাজার
    • নির্বাচিত লেখা
    • আলাপন
    • পরিবেশ
    • আরও
          • আর্থিক খাত
          • ওষুধ শিল্প
          • চামড়া শিল্প
          • বাণিজ্য
          • বাজার
          • মৎস্য খাত
          • যোগাযোগ
          • হিমায়িত খাদ্য
          • বিশেষ প্রতিবেদন
          • তথ্য ও প্রযুক্তি
          • প্রবাসী আয়
          • শিক্ষা খাত
          • কৃষি শিল্প
          • শ্রম বাজার
          • পরিবহন খাত
          • ভিনদেশ
          • রাজস্ব
          • বিশ্ব অর্থনীতি
          • আবাসন খাত
          • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প
          • ই-কমার্স
          • পর্যটন
          • পোলট্রি খাত
          • শিল্প খাত
          • স্বাস্থ্য অর্থনীতি
          • তৈরি পোশাক শিল্প
          • নগর দর্পন
    শনিবার, ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ | ২ মে, ২০২৬
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ

    ১১টি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি ঘুরে দাঁড়িয়েছে

    মার্চ ১৬, ২০২৫ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ8
    শেয়ার
    Facebook Twitter LinkedIn Email WhatsApp Copy Link

    অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
    দুর্নীতির কারণে প্রায় ধসের মুখে থাকা ১১টি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত ছয় মাসে আমানত সংগ্রহ ও গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এসব ব্যাংক এ অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত বছরের আগস্টে গভর্নর আহসান এচ মনসুর দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ১১টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটির তারল্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩০ হাজার কোটি টাকা নতুন অর্থ সরবরাহ করে এ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে।
    ঘুরে দাঁড়ানো ছয়টি ব্যাংক হলো—ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), আইএফআইসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বেশিরভাগই এখন আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতি সহায়তার ফলে এগুলো তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তবে নতুন উদ্বেগের বিষয় হলো খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া। আগে গোপন থাকা বিপুল পরিমাণ মন্দ সম্পদ (ঋণ) এখন প্রকাশ পাচ্ছে, যা ব্যাংকগুলোর লাভজনকতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে প্রভিশন ফরবিয়ারেন্স সহায়তা বিবেচনা করবে।
    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, শিল্পখাতে গড় খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছালেও প্রকৃত চিত্র গোপন করা যাবে না।
    এদিকে, বাকি পাঁচটি ব্যাংক এখনো আমানতকারীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে এবং আমানত উত্তোলনের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তারল্য সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পাঁচটি ব্যাংক এখনো প্রতিদিন তারল্য সহায়তার জন্য আবেদন করে যাচ্ছে।
    এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর তারল্য সহায়তা কর্মসূচিও কার্যকারিতা হারিয়েছে, কারণ এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ নেওয়া কিছু ব্যাংক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গ্যারান্টি প্রকল্পের অধীনে সাতটি সংকটাপন্ন ব্যাংককে ২৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এখনো ৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ফলে গ্যারান্টি প্রকল্পের আওতায় অন্য কোনো ব্যাংক এখন এসব সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংককে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যে এ প্রকল্প বন্ধের পরামর্শ দিয়েছে, কারণ এটি ব্যাংক খাতকে উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পাঁচটি ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছে। ঋণ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এসব ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আমানত উত্তোলন পরিচালনার জন্য এগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থের ওপর নির্ভর করছে, কারণ এ ব্যাংকগুলো এখনো গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।
    এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ সহজ করতে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে 'ব্যাংক রেজোলিউশন আইন' চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। 'ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ', ২০২৫-এর চূড়ান্ত খসড়া ইতোমধ্যে অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অধ্যাদেশ বাংলাদেশ ব্যাংককে অকার্যকর ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেবে। এর আওতায় অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ, নতুন বা বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ, তৃতীয় পক্ষের কাছে শেয়ার, সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সেতু ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং ব্যর্থ ব্যাংক বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গভর্নর মন্তব্য করেন, 'সব ব্যাংক টিকে থাকবে না।'
    তিনি আরও বলে, 'কিছু ব্যাংকের টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। কিছু ক্ষেত্রে, ব্যাংকের ৮৭ শতাংশ আমানত মাত্র একটি পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।' এ পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে চারটি আগে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব ব্যাংকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত, কারণ এগুলোর ৮০ শতাংশেরও বেশি আমানত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর কাছে কেন্দ্রীভূত ছিল। এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলো পাওনা আদায়ের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।
    এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ সরে যাওয়ার পর দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর ব্যাংকটি গত ছয় মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকা নতুন আমানত সংগ্রহ করেছে। গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাপক আমানত উত্তোলনের চাপে পড়েছিল ব্যাংকটি, যার ফলে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে তারল্য সহায়তা নিতে হয়। তবে, বর্তমানে এ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কারণ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকটি পুনরায় স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে।
    গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা পায়। তবে, আমানতের ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় থাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাংকটির আর তারল্য সহায়তার প্রয়োজন হয়নি।
    এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যাংক মুক্ত হওয়ার পর চেয়ারম্যান নিযুক্ত ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ জানান, গত ছয় মাসে ব্যাংকটিতে সাড়ে ১২ লাখ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তিনি ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকাকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নের জন্য একটি অডিট ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে এবং অতীতের অনিয়মের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
    পূর্বে শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নিয়ন্ত্রিত আইএফআইসি ব্যাংক গত চার মাসে চার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে, যা গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা আমানত হারায় ব্যাংকটি। ফলে অক্টোবরে ব্যাংকের মোট আমানত ৪৫ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে, যেখানে জুলাই মাসে এটি ছিল ৫০ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ আমানত উত্তোলনের ফলে তারল্য সংকট দেখা দেয় এবং ব্যাংক আমানতকারীদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়। তবে, চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে নবনিযুক্ত পরিচালনা পর্ষদ গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় আমানতের প্রবাহ আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সারাদেশে ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করেছেন এবং কর্মকর্তাদের আমানত সংগ্রহের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
    তিনি ব্যাংকের তারল্য সংকট সমাধানে ব্যাপক আমানত সংগ্রহ অভিযানের কৃতিত্ব দেন এবং জানান যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইএফআইসি ব্যাংকের আর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে তারল্য সহায়তা নিতে হয়নি। 'তারল্যের অবস্থার উন্নতির কারণে ব্যাংকটি এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সীমিত পরিসরে ঋণ বিতরণ পুনরায় শুরু করেছে,' বলেন তিনি।
    পূর্বে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর আমানত উত্তোলনের চাপ কাটিয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমানত প্রবাহ বাড়ায় ব্যাংকটি নিজস্ব তারল্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ব্যাংকটি দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। তবে, আমানত ক্ষয় বন্ধ হওয়ায় গ্রাহকেরা এখন আবার তাদের তহবিল ফিরিয়ে দিচ্ছেন। গত ছয় মাসে ব্যাংকটি দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা নিট আমানত সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ৯০ শতাংশ এসেছে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে। ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মামদুদুর রশিদ জানান, জুলাই আন্দোলনের পর তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে তারল্য সহায়তা নেননি। তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থির সময়ের কারণে ব্যাংক কিছু কর্পোরেট আমানত প্রত্যাহারের সম্মুখীন হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে ব্যাংকে যোগদানের পরপরই রশিদ ২৮০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চার দিনের একটি আমানত সংগ্রহ অভিযান শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত এটি ৪০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ফেলে।
    যদিও জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকটি কিছুটা আমানত হ্রাসের সম্মুখীন হয়েছিল, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৩৩০ কোটি টাকা এবং মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে এক হাজার ২৪০ কোটি টাকা নিট আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকটি ইতোমধ্যেই তারল্যের চাপ কাটিয়ে নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) এবং বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর)-এর ঘাটতি পূরণ করেছে। রশিদ বলেন, 'ব্যাংকের জন্য এখন আর তারল্য সংকট উদ্বেগের বিষয় নয়, তবে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ এখনও একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি এবং উচ্চমানের সম্পদ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।'
    সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, যা আগে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাত হাজার কোটি টাকা আমানত উত্তোলনের মুখে পড়েছিল। তবে তারল্য সংকট কাটিয়ে ওঠার পর ব্যাংকটি এখন স্বাভাবিক নগদ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করায় ব্যাংকটির বৈদেশিক বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়েছে। তবে, এস আলম গ্রুপের সময় খোলা এলসির বিপরীতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যাংকটি এখনো কিছুটা তারল্য সংকটে রয়েছে।
    গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটি নতুন করে ৯০০ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া, ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত চার হাজার কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুস সাদাত বলেন, 'অস্বাভাবিক আমানত উত্তোলন বন্ধ হওয়ায় সব শাখায় নগদ প্রবাহ এখন স্বাভাবিক রয়েছে।'
    তিনি আরও জানান, গ্রাহকেরা ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরে আসছেন এবং নতুন আমানত জমা দিচ্ছেন। পাশাপাশি, বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর আমদানি-রফতানি বাণিজ্যেও গতি এসেছে, যার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ সংক্রান্ত সেবাগুলো পুনরায় চালু হওয়ায় নগদ প্রবাহ আরও স্থিতিশীল হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকটি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনও স্বাভাবিক করেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত সেবা চালু রেখেছে। তবে, ঈদের আগে আমানত উত্তোলনের চাপ সামলাতে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দেড় হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তার আবেদন করে। ঈদের আগে এ ধরনের সহায়তা চাওয়া অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করেছে।
    এক্সিম ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমও বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং আমানত উত্তোলনের চাপ কমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এক্সিম ব্যাংক ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া তারল্য সহায়তার একটি বড় অংশ পরিশোধ করেছে। বর্তমানে এ দুটি ব্যাংক আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার ওপর নির্ভর করছে না।
    ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে চারটি আগে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। এসব ব্যাংক হলো—বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।
    পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পরও ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে সময় লাগছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এস আলম ব্যাংকটির আমানতের ৮০ শতাংশ বেনিফিশিয়ারি। ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান দুর্নীতির মাত্রা ব্যাখ্যা করে বলেন, যে ঋণগ্রহীতা ১০০ টাকা পরিশোধের সক্ষমতা রাখেন না, তাকেই ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, এসব ঋণগ্রহীতাদের অনেকেরই অস্তিত্ব নেই, কারণ একই গোষ্ঠী একাধিক ভুয়া পরিচয়ে ঋণ নিয়েছিল। ব্যাংকটি বর্তমানে নতুন আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ব্যাংকটি এখনো তারল্য সহায়তা গ্রহণ করে টিকে আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি এক হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা অনুমোদন করেছে।
    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের জন্য তারল্য সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে, কারণ এগুলোর পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এ ব্যাংকগুলোর আমানত ভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এগুলো বড় দুর্নীতির ধাক্কা সামলাতে পারছে না। গত ১৫ বছর ধরে সিকদার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে লড়াই করছে। দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চলতে থাকলেও অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীকালে নতুন সরকারের আমলে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটি সিকদার পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়। তবে, ততদিনে সংকট অনেক গভীর হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকটির মোট আমানত ৩৫ হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে, যা গত বছর ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ছিল। তারল্য সংকটের চাপের মধ্যে পড়ে ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পদত্যাগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদত্যাগ করেছেন, এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হতাশ হয়ে পদত্যাগের কথা ভাবছেন।
    পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ●
    অকা/ব্যাংখা/ই/সকাল, ১৬ মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

    সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

    এই বিষয়ে আরও সংবাদ

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক – আস্থাহীনতার ঘূর্ণিতে একীভূত উদ্যোগ

    মহান মে দিবসের বিশেষ পর্যবেক্ষণ
    নারী শ্রমে মানবতা ও বাস্তবতা

    বোতলজাত তেলের দাম বাড়লো লিটারে ৪ টাকা

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশ
    ডলারের সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ

    বসছে বাংলাদেশ-ইইউ সংলাপ; বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য

    রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হলেন সাইফুল ইসলাম

    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক সংবাদ

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক – আস্থাহীনতার ঘূর্ণিতে একীভূত উদ্যোগ

    মহান মে দিবস আজ
    শ্রমজীবী মানুষের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টির দিন

    মহান মে দিবসের বিশেষ পর্যবেক্ষণ
    নারী শ্রমে মানবতা ও বাস্তবতা

    সংস্কারের মাঝেও সংকুচিত বীমা খাত

    সাপ্লিমেন্ট আমদানিতে নতুন কড়াকড়ি

    বোতলজাত তেলের দাম বাড়লো লিটারে ৪ টাকা

    এক হাটের ইজারায় দর উঠলো ১৪ কোটি টাকা

    ইসলামপুরে সুপেয় পানির স্বস্তি, ঘরে ঘরে সরকারি সরবরাহ

    বাজেটে কালো টাকার সুযোগ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি

    বিএসইসির বিশেষ সতর্কবার্তা জারি
    অনলাইনে বিনিয়োগে সাবধান

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশ
    ডলারের সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ

    বসছে বাংলাদেশ-ইইউ সংলাপ; বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য

    জুলাইয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুরের বিদ্যুৎ

    রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হলেন সাইফুল ইসলাম

    পুঁজি বাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর ডিএসই: কোম্পানি পরিদর্শনে তাৎক্ষণিক ক্ষমতা

    মোবাইল রিচার্জে কর কমানোর উদ্যোগ: ১০০ টাকায় ৩৮ টাকা কাটাকে ‘অযৌক্তিক’ ঘোষণা

    বাজারে অস্থিরতা—দাম বাড়ার চাপ ও সিন্ডিকেটের প্রভাব

    ন্যূনতম ১০০-১০০০ টাকা প্রতীকী কর প্রবর্তনের দাবি

    টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, বেসরকারি খাতকে সুরক্ষা দেবে সরকার

    বিমানের চেয়ারম্যান হলেন ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান

    সম্পাদক প্রণব কুমার মজুমদার

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় - ৬২/১, পুরানা পল্টন (দোতলা), দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন, ঢাকা, বাংলাদেশ।

    বিটিসিএল ফোন +৮৮০২৪১০৫১৪৫০ +৮৮০২৪১০৫১৪৫১ +৮৮০১৫৫২৫৪১৬১৯ (বিকাশ) +৮৮০১৭১৩১৮০০৫৩

    ইমেইল - arthakagaj@gmail.com

    Editor PRANAB K. MAJUMDER
    Editorial & Commercial Office - 62/1, Purana Paltan (1st Floor), Dainik Bangla Crossing, Paltan, Dhaka, Bangladesh.
    BTCL Phone +880241051450 +880241051451 +8801552541619 (bkash) +8801713180053
    Email - arthakagaj@gmail.com

    ২০২৪
    অর্থকাগজ
    | আমাদের বৃত্তান্ত | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা | প্রচার | বিজ্ঞাপন | বিজ্ঞপ্তি | যোগাযোগ

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.