অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
পুঁজিবাজারে কারসাজি, প্রতারণামূলক লেনদেন এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব অনিয়মের দায়ে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বেক্সিমকো শেয়ার লেনদেনে কারসাজির ঘটনায় ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ৪২৮ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি এবং আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ারকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড থেকে মূলধন প্রত্যাহার-সংক্রান্ত অনিয়মের তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া শারমিন এবং এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব এইচ. মজুমদারকে পাঁচ বছরের জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবিজি লিমিটেডের মাধ্যমে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫ শতাংশ শেয়ার কৌশলগত অংশীদার হিসেবে অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া অ্যাকমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড, আল-আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড এবং বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে বিএসইসি শাস্তিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এসব ঘটনায় অনিয়ম ও সম্ভাব্য অর্থপাচারের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে বিএসইসি দুদকে চিঠি পাঠিয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ব্যাংকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং মশিউর সিকিউ লিমিটেডের ব্রোকারেজ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে দুদকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

