Close Menu
অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • শেয়ার বাজার
    • পর্যবেক্ষণ
    • আরও
      • আর্থিক খাত
      • আবাসন
      • তৈরি পোশাক
      • তথ্যপ্রযুক্তি
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • অপরাধ ও দুর্নীতি
      • শিল্প ও বাণিজ্য
      • রেমিট্যান্স
      • শিক্ষা
      • শিল্প
      • শ্রম বাজার
      • যোগাযোগ
      • জাতীয় অর্থনীতি
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ
    • ব্যাংক
    • বীমা
    • শেয়ার বাজার
    • পর্যবেক্ষণ
    • আরও
          • আর্থিক খাত
          • শিল্প ও বাণিজ্য
          • যোগাযোগ
          • অপরাধ ও দুর্নীতি
          • তথ্যপ্রযুক্তি
          • রেমিট্যান্স
          • শিক্ষা
          • শ্রম বাজার
          • জাতীয় অর্থনীতি
          • আবাসন
          • বিশ্ব অর্থনীতি
          • শিল্প
          • তৈরি পোশাক
    , |
    অর্থকাগজঅর্থকাগজ

    জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই বেসরকারি বিনিয়োগ

    আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৭:২৬ অপরাহ্ণ4
    শেয়ার
    Facebook Twitter LinkedIn Email WhatsApp Copy Link

     

    রনজক রিজভী

    বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, নগরায়ণ কিংবা রপ্তানি—কোনোটিই স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণ এত বেশি যে, শুধু সরকারের বাজেট ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আগামী দিনের চাহিদা পূরণ করা বাস্তবসম্মত নয়।

    এই বাস্তবতায় জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্কের চেয়ে বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, কীভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকে স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও জনস্বার্থবান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনা যায়।

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিসংখ্যানই এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর হিসাবে দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি খাতের অংশ ১২,৩০২ মেগাওয়াট বা ৪৩ শতাংশ, যৌথ উদ্যোগের ৩,০৬৮ মেগাওয়াট বা ১১ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতের ১০,৮৫৩ মেগাওয়াট বা ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাত এখন আর প্রান্তিক কোনো অংশীদার নয়; এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

    আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১০১,১৮৭ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে বেসরকারি খাতের উৎপাদন ছিল ৩৬,৩৭৮ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। অর্থাৎ মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৬ শতাংশ এসেছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে।

    জ্বালানি খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকে মুখোমুখি দাঁড় করানো অনেক সময় সমস্যাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। বাস্তবে দুটির উদ্দেশ্য ও ভূমিকা আলাদা হলেও পরস্পরকে পরিপূরক করা সম্ভব।

    সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো নীতি নির্ধারণ, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবকাঠামো তৈরি, নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ। বিশেষ করে জাতীয় গ্রিড, বড় ট্রান্সমিশন অবকাঠামো, কৌশলগত মজুত, দুর্যোগকালীন সরবরাহ এবং এমন কিছু প্রকল্প রয়েছে যেখানে সরাসরি সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

    অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগের শক্তি হলো মূলধন সংগ্রহ, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন, উদ্ভাবন এবং ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিনিয়োগের আগে প্রকল্পের সম্ভাব্য আয়, ব্যয়, ঝুঁকি ও ফেরত পাওয়ার সময় হিসাব করে। ফলে প্রকল্প নির্বাচন ও পরিচালনায় অর্থনৈতিক দক্ষতার চাপ থাকে।

    সুতরাং প্রশ্নটি ‘সরকার না বেসরকারি’ হওয়া উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, কোন প্রকল্পে সরকার বিনিয়োগ করবে, কোথায় বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে এবং কোথায় দুই পক্ষের অংশীদারত্ব সবচেয়ে কার্যকর হবে।

    বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের তুলনায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত। একই সময়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, এলএনজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সঞ্চালন ও সংরক্ষণ অবকাঠামোয় বিপুল অর্থ প্রয়োজন।

    বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারিভাবে অর্থায়ন করার কাঠামো তৈরি করতে হবে। সেখানে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কম থাকার মূল কারণ বাজারের সম্ভাবনা নয়; বরং নীতি বাস্তবায়ন, আর্থিক দুর্বলতা ও বিনিয়োগের আর্থিক ভিত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা।

    বাংলাদেশের জন্য এর অন্তত পাঁচটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

    প্রথমত, সরকারের অর্থের বিকল্প উৎস তৈরি করা। জ্বালানি অবকাঠামোয় বিপুল মূলধন প্রয়োজন। সরকার যদি প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, সৌর প্রকল্প, গ্যাস অবকাঠামো বা এলএনজি সক্ষমতার জন্য নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে, তাহলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবহনসহ অন্যান্য খাতের ওপর চাপ বাড়বে। বেসরকারি মূলধন যুক্ত হলে একই সময়ে বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব।

    দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি ও দক্ষতা আনা। আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলো শুধু টাকা নিয়ে আসে না; তারা প্রযুক্তি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, অপারেশনাল দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও নিয়ে আসে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি স্টোরেজ, এলএনজি, আধুনিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং স্মার্ট গ্রিডের মতো ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

    তৃতীয়ত, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন। সরকারি প্রকল্পে বাজেট, প্রশাসনিক অনুমোদন, ক্রয়প্রক্রিয়া ও নানা প্রাতিষ্ঠানিক ধাপের কারণে সময় বেশি লাগতে পারে। একটি সুশাসিত বেসরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগকারী নিজের অর্থ ও ঋণের দায় বহন করায় সময়মতো নির্মাণ ও উৎপাদনে যাওয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকে।

    চতুর্থত, ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া। সব আর্থিক ঝুঁকি রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত তার দায় পড়ে করদাতার ওপর। PPP বা Independent Power Producer (IPP) মডেলে যথাযথ চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ, পরিচালনা, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের কিছু ঝুঁকি বেসরকারি অংশীদারের কাছে দেওয়া যায়।

    পঞ্চমত, প্রতিযোগিতা তৈরি করা। একটি মাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান যখন উৎপাদন ও সরবরাহের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তখন দক্ষতার চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। বিপরীতে স্বচ্ছ দরপত্র ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থায় একাধিক বিনিয়োগকারীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আনা গেলে প্রযুক্তি ও মূল্যের ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ থাকে।

    বাংলাদেশে বেসরকারি বিদ্যুৎ বিনিয়োগের ধারণা নতুন নয়। ১৯৯৬ সালের Private Sector Power Generation Policy-এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নীতিমালার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ ও PPP-এর সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়।

    অর্থাৎ আজ বেসরকারি বিনিয়োগের পক্ষে যুক্তি দেওয়া মানে কোনো বিদেশি ধারণা হঠাৎ আমদানি করা নয়। বাংলাদেশ নিজেই গত তিন দশকে এমন একটি মডেল তৈরি করেছে এবং বাস্তবে তার সুফলও পেয়েছে।

    তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে। বেসরকারি বিনিয়োগ মানেই ভালো বিনিয়োগ নয়। কোনো প্রকল্প অস্বচ্ছভাবে অনুমোদিত হলে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না থাকলে, অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ হলে কিংবা সরকারের ওপর অযৌক্তিক দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় চাপলে সেটি জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    তাই বেসরকারি বিনিয়োগের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা নির্দিষ্ট চুক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়। বরং অর্থ হলো- স্বচ্ছ নীতি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ, প্রকাশ্য চুক্তি এবং জবাবদিহির মাধ্যমে বেসরকারি মূলধনকে কাজে লাগানো।

    বিশ্বের বহু দেশ জ্বালানি খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করছে। তবে সব দেশের অভিজ্ঞতা এক নয়; কোথাও সফলতা এসেছে, কোথাও ভুল নীতির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই দুই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশের শেখার সুযোগ রয়েছে।

    ব্রাজিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক নিলাম ব্যবস্থা চালু করেছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি Power Purchase Agreement বা PPA বিনিয়োগকারীদের আয় সম্পর্কে নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং বড় মূলধননির্ভর নবায়নযোগ্য প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করেছে। ২০০৭ সাল থেকে ব্রাজিলের নিলাম ব্যবস্থায় ৩৩ গিগাওয়াটের বেশি নবায়নযোগ্য সক্ষমতা চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে।

    ভারতও দেখিয়েছে কীভাবে সরকারি নীতি ও বেসরকারি মূলধন একসঙ্গে কাজ করতে পারে। Rewa Solar Park-এর মতো প্রকল্পে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা প্রকল্পকে বিনিয়োগযোগ্য বা ‘bankable’ করে তোলার পর বেসরকারি ডেভেলপারদের প্রতিযোগিতামূলক নিলামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে বড় পরিসরে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়েছে।

    ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা এখনও দৃশ্যমান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বিশ্বব্যাংক ভারতের সৌর ছাদ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য বেসরকারি মূলধনকে আরও সক্রিয় করা এবং লাখ লাখ পরিবারের জন্য সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ করা।

    ভিয়েতনাম আরও একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ। সেখানে সরকার Feed-in Tariff বা FIT ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছিল। এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা দ্রুত বেড়ে চারগুণ হয়। তবে অতিরিক্ত দ্রুত বিনিয়োগের ফলে কিছু এলাকায় গ্রিডের সক্ষমতার সঙ্গে উৎপাদনের সমন্বয়হীনতাও দেখা দেয়। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন বলছে, এই অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তী সময়ে ভিয়েতনাম প্রতিযোগিতামূলক নিলাম ও উন্নত পরিকল্পনার দিকে যেতে চেয়েছে।

    এই উদাহরণটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু বিনিয়োগ আনলেই হবে না; কোথায়, কী পরিমাণ এবং কোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ হবে- সেটিও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে।

    বেসরকারি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় শর্ত- বিশ্বাসযোগ্য নীতি। বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো বিনিয়োগকারী পাওয়া নয়, বরং বিনিয়োগকারীর আস্থা তৈরি করা।

    একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে শত শত কোটি বা হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। বিনিয়োগকারীকে ১৫, ২০ কিংবা ২৫ বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব করতে হয়। সে কারণে হঠাৎ নীতির পরিবর্তন, চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, বিল পরিশোধে বিলম্ব কিংবা অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

    বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি বাস্তবতায় এ বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ নিরাপত্তা বাড়াতে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের Energy Sector Security Enhancement Project অনুমোদন করে এবং IDA guarantee-এর মাধ্যমে সাত বছরে ২.১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেসরকারি মূলধন mobilize করার কাঠামো তৈরি করেছে।

    অর্থাৎ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছেও এখন ধারণাটি স্পষ্ট- সরকারের কাজ শুধু নিজে টাকা খরচ করা নয়; বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে সরকারি অর্থের সঙ্গে বেসরকারি মূলধন কয়েক গুণ বেশি বিনিয়োগ সৃষ্টি করতে পারে।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে- মতবিরোধ কেন থাকা উচিত নয়? জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। একটি চুক্তির মূল্য, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, প্রযুক্তি নির্বাচন কিংবা পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়।

    কিন্তু ‘বেসরকারি বিনিয়োগ’কে নিজেই সন্দেহজনক বা জনস্বার্থবিরোধী হিসেবে দেখার প্রবণতা যৌক্তিক নয়। একইভাবে ‘বেসরকারি হলেই দক্ষ’ এমন ধারণাও সঠিক নয়।

    মতবিরোধের জায়গা হওয়া উচিত শর্ত, প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে- বেসরকারি মালিকানা নিয়ে নয়।

    যেমন, প্রশ্ন হতে পারে:

    প্রকল্পটি আদৌ প্রয়োজনীয় কি না?
    দরপত্র প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে কি না?
    বিদ্যুতের দাম যৌক্তিক কি না?
    সরকারের আর্থিক দায় কত?
    চুক্তিতে ঝুঁকি কার ওপর কতটা?
    জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত কি না?
    পরিবেশগত ক্ষতি কতটা?
    চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না?
    জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা যথেষ্ট কি না?

    এই প্রশ্নগুলো করা হলে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য হয়। কারণ স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা ভালো বিনিয়োগকারীকে উৎসাহিত করে এবং খারাপ বিনিয়োগকে আটকে দেয়।

    বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতের সবচেয়ে কার্যকর মডেল হতে পারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্র ব্যবস্থা।

    সরকার থাকবে নীতি, নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগত পরিকল্পনা ও জাতীয় অবকাঠামোর দায়িত্বে। বেসরকারি খাত নিয়ে আসবে মূলধন, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও উদ্ভাবন। প্রয়োজন হলে উন্নয়ন সহযোগীরা দেবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও ঝুঁকি প্রশমন। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চিত করবে—কোনো পক্ষ যেন ভোক্তার স্বার্থের ওপর অযৌক্তিক সুবিধা নিতে না পারে।

    বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, rooftop solar, battery storage, energy efficiency, LNG infrastructure এবং আধুনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে।

    বাংলাদেশের মতো সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার দেশে প্রতিটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য সরকারি কোষাগারের দিকে তাকিয়ে থাকা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়। আবার সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত বাজারও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছ চুক্তি এবং জনস্বার্থভিত্তিক বিনিয়োগ কাঠামো।

    জ্বালানি খাত কোনো সাধারণ ব্যবসা নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এই খাতে রাষ্ট্রের ভূমিকা কখনো শেষ হয়ে যাবে না। কিন্তু রাষ্ট্রের ভূমিকা মানেই প্রতিটি প্রকল্পে সরকারকে নিজেই অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে, এমন ধারণাও বাস্তবসম্মত নয়।

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে বেসরকারি বিনিয়োগ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান কাঠামো কল্পনা করা কঠিন। এখন প্রয়োজন সেই অভিজ্ঞতাকে আরও পরিণত করা।

    বেসরকারি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে হবে, তবে শর্তহীনভাবে নয়। বিনিয়োগকারীকে নিরাপদ ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ দিতে হবে, কিন্তু জনগণের অর্থ ও স্বার্থের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। দরপত্র হতে হবে প্রতিযোগিতামূলক, চুক্তি হতে হবে স্বচ্ছ, মূল্য হতে হবে যৌক্তিক এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা হতে হবে শক্তিশালী।

    বিশ্বের অভিজ্ঞতা একটি বিষয় পরিষ্কার করে- সরকারি অর্থ একা দিয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা মেটানো কঠিন; আবার শুধু বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। সফল মডেল হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সরকার পথ তৈরি করে, বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করে এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থ রক্ষা করে।

    বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে তাই আসল বিতর্ক ‘বেসরকারি বিনিয়োগ হবে কি হবে না’ এটি হওয়া উচিত নয়। আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত, কীভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকে এমনভাবে কাজে লাগানো যায়, যাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ে, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয়, সরকারের আর্থিক চাপ কমে এবং শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় বাংলাদেশের মানুষ।

    এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন মতবিরোধের বদলে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক আলোচনা, স্বচ্ছতা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি কৌশল।

    লেখক: সাংবাদিক।

    সর্বশেষ হালনাগাদ 5 hours আগে

    এই বিষয়ে আরও সংবাদ

    অদৃশ্য শত্রুর নাম মাইক্রোপ্লাস্টিক

    ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা; বাড়বে রাজস্ব আদায়

    মার্কিন শুল্ক: কী করবে বাংলাদেশ?

    দেদারে ক্যানসেল হচ্ছে আমিরাত প্রবাসীদের ভিসা

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও অতঃপর…

    মামলার জট কমাতে মধ্যস্থতা: এখন দরকার বাস্তব প্রয়োগ

    Leave A Reply Cancel Reply

    সাম্প্রতিক সংবাদ

    জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই বেসরকারি বিনিয়োগ

    ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যাংককে একই প্ল্যাটফর্মে আনছে ‘সুপার সেল’

    বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা

    করপোরেট সুশাসন শক্তিশালী করবে বিএসইসি

    সুগন্ধি চাল রফতানি কমানোর উদ্যোগ

    বন্ধ হলো সামিটের এলএনজি সরবরাহ

    বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে লাওস

    ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে এডিবির সহায়তার আশ্বাস

    বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা

    আদর্শের রাজনীতির শেষ সারির এক যোদ্ধা মির্জা ফখরুল

    ক্ষমতা, ইতিহাস ও ফ্যাসিবাদ—বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসল প্রশ্ন কোথায়?

    ১২ দেশের সঙ্গে চলছে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

    হরমুজ বন্ধ থাকলে ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ০.৩ শতাংশে

    ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প: ৩২১ কোটি টাকার ট্যাব কিনছে সরকার

    শপিংমল-মার্কেট-দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

    গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আক্তার হোসেনের নিয়োগ বাতিল

    ফের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৭ বিলিয়ন ডলার

    বালুর মধ্যে মূল্যবান সম্পদ, নিঝুম দ্বীপে বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত

    সম্পাদক প্রণব কুমার মজুমদার

    সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় - ৬২/১, পুরানা পল্টন (দোতলা), দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন, ঢাকা, বাংলাদেশ।

    বিটিসিএল ফোন +৮৮০২৪১০৫১৪৫০ +৮৮০২৪১০৫১৪৫১ +৮৮০১৫৫২৫৪১৬১৯ (বিকাশ) +৮৮০১৭১৩১৮০০৫৩

    ইমেইল - arthakagaj@gmail.com

    Editor PRANAB K. MAJUMDER
    Editorial & Commercial Office - 62/1, Purana Paltan (1st Floor), Dainik Bangla Crossing, Paltan, Dhaka, Bangladesh.
    BTCL Phone +880241051450 +880241051451 +8801552541619 (bkash) +8801713180053
    Email - arthakagaj@gmail.com

    ২০২৪
    অর্থকাগজ
    | আমাদের বৃত্তান্ত | গোপনীয়তা নীতি | শর্তাবলি ও নীতিমালা | প্রচার | বিজ্ঞাপন | বিজ্ঞপ্তি | যোগাযোগ

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.