অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) শিল্পের সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সমন্বিত নীতিমালার অভাবে এ খাত প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই ইভি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
শনিবার ঢাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ই-মোবিলিটি সামিট ২০২৬’-এ বক্তারা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ দ্রুত বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকলেও বাংলাদেশ এখনও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইভি ব্যবহারের আগ্রহ প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে না।
সেমিনারে জানানো হয়, দেশে এখন পর্যন্ত ৩২টি ইভি চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেওয়া হলেও চালু রয়েছে মাত্র ৯টি। ফলে দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা বাণিজ্যিকভাবে ইভি ব্যবহারে এখনও নানা ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বক্তারা বলেন, শুধু চার্জিং স্টেশন নির্মাণই নয়, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, চার্জিং প্রযুক্তির মান নির্ধারণ এবং আমদানিকৃত বৈদ্যুতিক যানবাহনের গুণগত মান তদারকিও জরুরি। একই সঙ্গে ইভি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কর-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তাদের মতে, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, আধুনিক চার্জিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

