অর্থকাগজ প্রতিবেদন
দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক তথ্য প্রকাশের পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বর্তমানে প্রতি তিন মাস অন্তর বিস্তারিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরিবর্তে ভবিষ্যতে ছয় মাস অন্তর পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালুরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদনের মান উন্নত হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের শেয়ার বাজার আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ খান বলেন, কমিশন আর প্রতি তিন মাস অন্তর বিস্তারিত আর্থিক প্রতিবেদন চায় না। এর পরিবর্তে ছয় মাস অন্তর পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আর্থিক রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে দেশের পুঁজিবাজার বৈশ্বিক চর্চার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
তিনি বলেন, কমিশনের লক্ষ্য কেবল নিয়মকানুন প্রয়োগ করা নয়; বরং বাজারের সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা। তাঁর ভাষায়, আইনের মধ্যেই সমাধানের পথ রয়েছে এবং বিশ্বের সফল প্রতিষ্ঠানগুলোও সমাধানমুখী চিন্তার মাধ্যমেই এগিয়েছে। তাই কমিশনের প্রতিটি সদস্য ও কর্মকর্তাকে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বাজারসংশ্লিষ্টরা সমস্যার ব্যাখ্যা নয়, বাস্তবসম্মত সমাধানই প্রত্যাশা করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন কমিশনের সক্ষমতার বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, বর্তমান কমিশনের সদস্যরা শেয়ার বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত থেকে আসায় বাজারের বাস্তব সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে নীতিনির্ধারণে বাস্তবতা ও অংশীজনদের প্রয়োজন আরও বেশি গুরুত্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের শেয়ার বাজার এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই বাজারকে শক্তিশালী করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা অপরিহার্য। তিনি সরকারের প্রতি তিনটি সুপারিশ তুলে ধরেন—জাতীয় অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে শেয়ার বাজারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, সরকারকে বাজারের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা এবং একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কমিশন নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ঋণনির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে শেয়ার বাজারভিত্তিক অর্থায়ন সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে। একই সঙ্গে নতুন কমিশনের সদস্যদের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাজারে নতুন আস্থা সৃষ্টি করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ছয় মাস অন্তর পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সময়মতো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, অন্তর্বর্তীকালীন প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, করপোরেট সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে। এসব পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ার বাজার আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ হালনাগাদ 14 hours আগে

