অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
নতুন অর্থবছরের বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য কর রেয়াত ও বিভিন্ন নীতিগত সহায়তার ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এর প্রভাবে গত সপ্তাহজুড়ে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন ও মূল্যসূচক—দুই ক্ষেত্রেই শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এর ফলে মাত্র এক সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৫ হাজার ২১৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯১ দশমিক ০৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৭৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই শরিয়াহ ২৫ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ ৩০ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য গতি ফিরেছে। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৫০ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ৪৮২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি গত দুই বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক লেনদেন।
খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে বস্ত্র, ব্যাংক এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারে। এসব খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেনায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
টানা ছয় কার্যদিবস বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের শেষ দিনে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও সামগ্রিক বাজারে তার বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। ইতিবাচক ধারাই বজায় ছিল।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে দর কমেছে তুলনামূলকভাবে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং সিটি ব্যাংকের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে উসমানিয়া গ্লাস ও শ্যামপুর সুগারের শেয়ারের।
বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেটে ঘোষিত কর-সুবিধা, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

