অর্থকাগজ প্রতিবেদক>
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটির সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ সোমবারও অব্যাহত রয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আখতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংস্থার উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া সম্পদের তালিকা তৈরি ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এর আগে রোববার পরিচালিত অভিযানে ফ্ল্যাট দুটিতে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী পাওয়া যায়। দুদকের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, সেখানে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, আটটি ঘড়ির বক্স—যার মধ্যে চারটি রোলেক্স ব্র্যান্ডের, তিন সেট মুক্তার গয়না, চারটি ঝাড়বাতি, একটি বেড, একটি সোফা এবং প্রায় ১০০টি কামিজ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয়রসিদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটির মূল্য প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। শুরুতে দুদক, সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পরে টিম পুনর্গঠন করে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমীলা জামান—যিনি ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান—এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই আদালতের নির্দেশে গুলশানের রোড-৬৬-এর একই ভবনের দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার হিসেবে দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্ল্যাটে প্রবেশ, সম্পদের তালিকা প্রস্তুত এবং আইনগত কার্যক্রম পরিচালনায় গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে তার নামে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়। এসব বিদেশি সম্পদ ও বিনিয়োগের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা বলে আদালতে উপস্থাপিত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ হালনাগাদ 17 hours আগে

