অর্থকাগজ ডেস্ক>
হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক জলপথ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হতে পারে।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তাহলে তারা অনেক কিছু হারাবে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে দেশটির জন্য তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে।”
তার এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে শনিবার আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান। তেহরানের দাবি, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় লেবাননে সংঘাত কমানোর যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর স্থায়ী শান্তি চুক্তির খসড়া তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, “যদি কোনো সমাধান না আসে, তাহলে আমরা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় সরাসরি ভূমিকা নিতে পারি। সেই ক্ষেত্রে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ পুনরুদ্ধারের যুক্তি হিসেবে তিনি টোল আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”
অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “হুমকির ভাষা ব্যবহার করার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 14 hours আগে

