বিনোদন প্রতিবেদক>
ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে মাঝে মাঝেই কিছু সন্ধ্যা আসে, যা কেবল একটি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে না—হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এমনই এক সুরময় সন্ধ্যার সাক্ষী হলো রাজধানী, যখন ‘দ্য ভেলভেট নাইট বাই বিলাওয়াল অ্যান্ড ঘুণপোকা’ আয়োজনে বাংলা রক, গজল, সুফি ও শাস্ত্রীয় সংগীতের মেলবন্ধনে মুগ্ধ হলেন সংগীতপ্রেমীরা।
বিশ্ব সংগীত দিবসের প্রাক্কালে পকেট মিডিয়ার আয়োজনে বনানীর বী-ইন ফুডসে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন শুরু থেকেই দর্শকদের টেনে নেয় ভিন্নধর্মী এক সংগীত ভ্রমণে। মঞ্চের আলো, ঘনিষ্ঠ পরিবেশ আর একের পর এক জনপ্রিয় গানের পরিবেশনায় জমে ওঠে পুরো আসর।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের সংগীত ও বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত মুখরা। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সংগীতশিল্পী ও সুরকার নাকিব খান, অভিনেত্রী শায়লা খান এবং গ্ল্যামার ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ বাবরি ইসলাম তুলী।
মঞ্চে উঠে ব্যান্ড ঘুণপোকা পরিবেশন করে তাদের নিজস্ব গান। পাশাপাশি বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি ‘মহিনের ঘোড়াগুলি’র কালজয়ী কিছু গান গেয়ে দর্শকদের ফিরিয়ে নেয় নস্টালজিয়ার ভুবনে। গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত শ্রোতারাও।
অন্যদিকে বিলাওয়ালের পরিবেশনায় উঠে আসে উপমহাদেশের সংগীত ঐতিহ্যের অনন্য সব সৃষ্টি। গুলাম আলী, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ রফি, জগজিৎ সিং ও পঙ্কজ উদাসের জনপ্রিয় গান এবং সুফি ঘরানার পরিবেশনা শ্রোতাদের আবেগময় এক সংগীত যাত্রায় নিয়ে যায়। কখনও গজলের মাদকতা, কখনও সুফি সুরের আবেশ—সব মিলিয়ে সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে বৈচিত্র্যময়।
শুধু গান নয়, আয়োজনটিতে ছিল নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করার বার্তাও। ঘুণপোকার সদস্য সাকিব উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণই পারে তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটাতে।
আয়োজক পকেট মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এস.আর.এফ খান জানান, ‘ভেলভেট নাইট’কে নিয়মিত আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যেখানে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন সংগীতধারাকে একই মঞ্চে তুলে আনা হবে।
গান, গল্প, আড্ডা আর শ্রোতাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে জমে ওঠা সন্ধ্যাটি শেষ হয় এক বিশেষ মুহূর্তে। রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশ্ব সংগীত দিবসকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ‘দ্য ভেলভেট নাইট’-এর।
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 hours আগে

